ক্রিপ্টোকারেন্সি কি এবং কিভাবে এর উত্তপত্তি?

ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি ভারচুয়েল কারেন্সি। ক্রিপ্টো কাথাটি শুনলেই একটি সচার-অচার বিষয় মাথাই চলে আসে। আর তা হলো ইনক্রিপ্টেড এবং ডিক্রিপ্টেড । আমারা যারা কম্পিউটার ব্যবহার করি তারা সকলেই এই কথাটির সাথে পরিচিত হয়ে থাকবো। বেশ কিছু ফাইলকে এক সাথে রেখে সুরক্ষার জন্য ক্রিপ্টেড করে থাকি। আর এই সুরক্ষার জন্যই ক্রিপ্টেড কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে। যার ফরে ক্রিপ্টো+কারেন্সি মিলে তৈরি হয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি।

ক্রিপ্টোকারেন্সি কি?

আগেই বলেছি ক্রিপ্টোকারেন্সি হচ্ছে ভারচুয়াল কারেন্সি। যা ধরা-ছুয়া যায় না, শুধু দেখা যায়। এটি একটি কম্পিউটার এ্যলগোরিদম টেকনোলজি। ক্রিপ্টোগ্রাফিক কোডের মাধ্যমে এটিকে তৈরি করা হয়েছে। সহজ কথাই বলতে গেলে এটি একরকম কোডিং এর মাধ্যমে সংখ্যা। যেমন মনে করেন আপনার বিকাশে ১০০০/- টাকা রয়েছে। এই ১০০০/- টাকা কি বাস্বব টাকা, নাকি শুধু সংখ্যা? শুধু সংখ্যা, এই সংখ্যা আপনি এর অনুমদিত প্রতিষ্টানকে দিয়ে তার বিপরিতে আপনি বাস্বব টাকা নিতে পারবেন। বিকাশ একটি অনুমদিত এবং নিয়ন্ত্রিত মাধ্যম কিন্তু ক্রিপ্টোকারেন্সি কারো নিয়ন্ত্রনাধীন নয়।

ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন হয় একটি সুরক্ষিত ব্লকচেইন এর মাধ্যমে। যা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং হ্যাকহীন মাধ্যম।

ক্রিপ্টোকারেন্সি কোন গুলো?

ক্রিপ্টোকারেন্সির কথা বলতে গেলে সর্বপ্রথম বিটকয়েন এর কথা চলে আসে। মার্কেটে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি আছে কিন্তু তার মধ্যে বিটকয়েন প্রথম এবং সব চাইতে জনপ্রিয়। এছাড়া ক্রমানুসারে রয়েছে, ইথেরিয়াম (Ethereum), লাইটকয়েন (Litecoin), এক্সআরপি (XRP) ইত্যাদি।

বিটকয়েন

ক্রিপ্টোকারেন্সিকে সহজ ভাবে বুঝার জন্য আমরা বিটকয়েন দিয়ে আলোচনা করাতে পারি। বিটকয়েন নামটি শুনলে মনে করবেন এটি একটি বাস্তব কয়েন। আমি আগেই বলেছি ক্রিপ্টোকারেন্সি মানে ভার্চুয়েল কারেন্সি।

যতদুর জানা যায়, জাপানের একজন না দেখা ব্যক্তি, যার নাম সাতোশি নাকামোতো, তিনিই বিটকয়েন তৈরি করেন। তিনি নিজের পরিচয় গোপন রাখেন। আজ অবধি তাকে কেউ দেখেনি এবং তিনি বেঁচে আছেন কিনা তাও কারো পক্ষে বলা সম্ভব নয়। নাম ছাড়া তার আর কোন পরিচয় জানা নেই। আর তার নামেরই একটা অংশ বিটকয়েন। অর্থাৎ আমার ১ টাকার ভাংগা সংখ্যাকে (০.০৫ পাঁচ পয়সা) যেমন পয়সা বলি ঠিক তদ্রুপ বিটকয়েন এর শুন্য দশমিক এর পরের সংখ্যা গুলোকে সাতোশি বলা হয়।

বিটকয়েন কিভাবে তৈরি হয়?

বিটকয়েন উচ্চক্ষমতা সম্পূর্ণ কম্পিউটারের মাধ্যমে তৈরি করা হয় যাকে মাইনিং বলা হয়। যার মূল চালিকা শক্তি GPU (Graphics processing unit) নামে শক্তিশালী ইন্সট্রুমেন্ট। Graphics শব্দটির মাধ্যকে অনেকটাই বুঝা যায়, কারন আমরা এই শব্দটির সাথে বেশ পরিচিত। বিটকয়েন তৈরি পদ্ধতিকে বলা হয় মাইনিং আর যারা এই মাইনিং করে তাদের বলা হয় মাইনার।

যারা বিটকয়েন মাইনিং করেন তারা একটা কমিশন পান। আর এই মাইনারই যেসব বিটকয়েন ট্রান্জেকশন করা হয় তা ভ্যলিড করেন বা ভ্যলিডি চেক করেন। অর্থাৎ আমরা যখন একজন থেকে আরেকজনের কাছে বিটকয়েন ট্রান্সফার করি তা অটোমেটিক সেই সব মাইনিং করা কম্পপিউটারের সিস্টেমে চলে যায় এবং মাইনিং করা কম্পিউটার গুলো ট্রিন্জেকশনের ভ্যলিডিটি চেক করে ট্রান্জেকশন সঠিক হলে সেই ট্রান্জেকশনকে একটি ব্লকে পাঠায়। যেটিকে ব্লকচেইন সিষ্টেম বলে।

মাইনংএ বিদ্যুৎ খরচ অনেক বেশি। তাই যেদেশে বিদ্যুৎ এর দাম বেশি সে দেশে মাইনিং খুব একটা লাভজনক নই।

বিটকয়েন এর উপর নিয়ন্ত্রন

বিটকয়েনকে বা ক্রিপ্টোকারেন্সি কেউ নিয়ন্ত্রন করতে পারেনা। আর তাই একে ডিসেন্ট্রালাইজড্‌ বলা হয়। যেমন আমাদের দেশের টাকা নিয়ন্ত্রিত, তাই টাকা একটি সেন্ট্রালাইজড্‌ কারেন্সি। টাকাকে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সরকার মিলে নিয়ন্ত্রন করে। আর বিটকয়েন কোন দেশের কারেন্সি নই, তাই বিটকয়েনকে বা ক্রিপ্টোকারেন্সি কেউ নিয়ন্ত্রন করতে পারেনা।

বর্তমানে যদিও ক্রিপ্টোকারেন্সিকে রেগুলেশনের মধ্যে নিয়ে এসে নিয়ন্ত্রন করা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উন্নত দেশ গুলো। যার মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্র।

এখানে একটি বিষয় যেহেতু ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ন্ত্রনহীন; তার ফলে এই মার্কেটের প্রাইসটা খুব বেশি উঠা নামা করে। যেমন ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে এর দাম ২০,০০০/- মার্কিন ডলার এ গিয়ে পৌছে ছিল, বর্তমানে আমার এই পোষ্ট করার সময় যার দাম এখন ৩৫৭৭/- মার্কিন ডলার। দাম কত বেশি উঠানামা তা সহজেই বুঝা যায়। আর তাই এই মার্কেটে ইনভেস্ট অনেক রিস্ক। যদিও দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছেই।

বিটকয়েনে লেনদেন

বিটকয়েনে লেনদেন খুব সহজে, দ্রুত এবং নিরাপদে করা যায়। এখানে কোন থার্ড পার্টি নেই। যেমন ধরেন, আপনি বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে টাকা পাঠাবেন। তাহলে এর জন্য আপনাকে টাকা নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে পাটাতে হবে বা বাসাই বসে ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পাঠাবেন। যেটাই করেন না কেন, আপনি ব্যাংক ছাড়া পাঠাতে পারবেন না। এখানে ব্যাংক থার্ড পার্টি। কিন্তু আপনি যদি কাউকে বিটকয়েন পাঠাতে চান তবে আপনাকে কোন থার্ড পার্টির সাহায্য নিতে হবে না। অর্থাৎ এখানে শুধু আমি যদি আপনাকে কোন বিটকয়েন পে করি তবে আমি আর আপনি ছাড়া আর কেউ জানবে না। এই ট্রান্জেকশনকে বলা হয় P2P বা Peer to Peer আর তাই এটি অনেক নিরাপদ এবং সহজ।


মন্তব্য