কক্সবাজার ভ্রমন কাহিনী ও কিছু নির্দেশনা-১

কক্সবাজার ভ্রমন পরিকল্পনা

নভেম্বর ২০১৮ তারিখ এর প্রথম সপ্তাহ্‌ ছিল আমাদের কক্সবাজার ভ্রমনে যাবার প্রস্তুতি। আমরা বলতে, আমি, আমার স্ত্রী এবং আমার মেয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমার মেয়ের বয়স তখন ২ বছরের কিছু কম ছিল।

কক্সবাজার যাবার জন্য টিকিট বুকিং

আমরা রওনা দেওয়ার ১০ দিন আগেই ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কেটে নিয়েছিলাম, কারণ আমি টিকিট কাঁটার বেশ কিছুদিন আগেই চট্রগাম যাবার ট্রেনের টিকিট এর চাহিদা কেমন তা অনলাইনে চেক করেছিলাম। চেক করে যা দেখতে পেয়েছিলাম তা আমার ধারনাতেই ছিল না। চট্রগ্রাম ট্রেনের টিকিট অনলাইনে ছাড়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই প্রায় শেষ হয়ে যায়। আর যেখানে আমি পরিবার নিয়ে যাবার কথা ভেবেছিলাম সেখানে একটা দিনও দেরি করে কাটার কোন অবকাশ ছিল না। যদিও আমি অনলাইনে টিকিট ছাড়ার দিনই টিকিট কেঁটেছিলাম তারপরও আমি ২ সিটের কেবিন পাই নাই। আর অনলাইনে যেই সিট গুলো বুকিং এর জন্য ছাড়া হয় সেই গুলোতে আইকোন গুলোর রং ভিন্নরকম হয়। আর তা দেখে বুঝতে পারলাম সিংগেল কেবিনগুলো অনলাইনে বুকিং করার সুবিধা নেই , অর্থাৎ আপনি সিংগেল কেবিন নিতে হলে অবশ্যই কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কিনতে হবে।

এখানে একটি বিষয় বলে রাখি, আমি রাজশাহী থেকে কক্সবাজার এর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। আর রাজশাহী থেকে চট্রগ্রাম যাবার জন্য সরাসরি কোন ট্রেন নাই। আমি রাজশাহী থেকে বিকাল ৪-টার সময় ছেড়ে যাওয়া পদ্মা ট্রেনে গিয়েছিলাম। আর ঢাকা থেকে রাত্রী ১১.৩০ মিনিটে তুর্না এক্সপ্রেস চট্রগ্রাম এর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কোন সমস্যা না হলে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া পদ্মা ট্রেন রাত্রি ১০-টা বা তার আগেই পৌছে যায়। আর তার কারনে আমি রাজশাহী থেকে পদ্মার টিকিট কেঁটেছিলাম, আর ঢাকা থেকে তুর্না এক্সপ্রেস এর টিকিট (একই তারিখের)।

কিন্তু আমার দুইটি ভুল হয়েছিল, তার মধ্যে একটি ভুল হলো, যেহেতু আমার সাথে আমার বাচ্চা ছিল তাই একটি রাত্র ঢাকাই বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন ছিল, যা আমি পরে বুঝতে পেরেছিলাম। আর বড় মানুষও ক্লান্ত হয়ে যাবে, এক সাথে এত বড় ভ্রমন এক নাগড়ে করলে, আর তা যদি হয়ে ট্রেনে বা বাসে।

রাজশাহী থেকে ঢাকা

যাইহোক, আমাদরে পূর্ব ধারনার চেয়ে অনেক আগেই আমরা রাজশাহী থেকে ঢাকাই পৌছে গিয়েছিলাম। এতে সুবিধা হয়েছিল যে, আমরা চট্রগ্রামের ট্রেনে অনেক আগেই উঠে গিয়ে ধীরে-সুস্থে রাত্রের খাবার খেয়ে নিতে পারছিলাম। কারন সেই ট্রেন আমাদের রাজশাহী-ঢাকা, রাজশাহী-খুলনার মত না; যে, যেই ট্রেন রাজশাহী থেকে বিকালে ছেড়ে ঢাকা যাবে, সেই ট্রেনই আবার ঢাকা থেকে সেই রাত্রেই রাজশাহীতে রওনা দিবে, এমনটি নয়। আমরা দেখলাম ঢাকা কমলাপুর ষ্টেশনে পূর্ব থেকেই একটি চট্রগ্রামের ট্রেন দাড়ীয়ে আছে তাই আমরা সেই ট্রেনে উঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, আর ঠিক সেই মুহুর্তেই চট্রগ্রাম থেকে আসা আরো একটি ট্রেন কমলাপুর ষ্টেশনে প্রবেশ করলো, নিশ্চিত হবার জন্য লোকজনদের জিগ্গাসা করে জানলাম পূর্ব হতেই যেই ট্রেনটি দাড়ীয়ে আছে সেটাই যাবে।

চট্রগ্রাম ট্রেনের টিকির কাঁটার সময় খেয়াল রাখবেন, ১ থেকে প্রায় ১২ নাম্বার সিট যেন না কাঁটেন। কারন এই সিট গুলোর উপরে কোন বাঙ্কার থাকে না, যার কারনে আপনার লাগেজ-ব্যাগেজ রাখা সমস্যা হবে। তদ্রুপ বগীর শেষের সিট গুলো কাঁটবেন না। সহজ কথাই বগীর মাঝের সিট গুলো নেওয়াটাই উত্তম।

ঢাকা থেকে চট্রগ্রামের পথে

যথা সময়ে ট্রেন ছাড়ল, মজার বিষয় হলো ঢাকা থেকে বের হয়ে চট্রগ্রাম এর রেলপথ শুরু হলে সম্ভত এর মাঝে কোন স্টপেজ নেই। “সম্ভত” কারন, ক্লান্তির কারনে কখনো কখনো ঘুমিয়ে যাচ্ছি আর কখনো কখনো জেগে উঠছি। যতবারই জেগেছি ট্রেন চলন্ত অবস্থাই পেয়েছি। আর পরে এক ভাইয়ের কাছে জনলাম যে চট্রগ্রাম এর ট্রেনে নাকি স্টপেজ নাই, ঢাকার ভিতরের ষ্টশন গুলো ছাড়া। অবশ্য সেই ভাই দিনের ট্রেনে চট্রগ্রাম গিয়েছিল বলে সে তা বলতে পেরেছিল, সেই কোন সময় সেই রুটে রাত্রের ট্রেনে যাই নাই। যাইহোক, অবশেষে আমরা সকাল প্রায় ৭.৩০-টার সময় চট্রগ্রাম ষ্টেশনে পৌছালাম।

পোষ্ট অনেক বড় হয়ে যাবার করনে আশা করি, বাকি ভ্রমন কথা গুলো পরের পোষ্টে তুলে ধরবো ইন্‌শাআল্লাহ্‌।

মন্তব্য